কবিতা-এম এ সাঈম সাগর

সাভার

এম সাঈম সাগর


হাতে তার একটি চিঠি
মায়ের জন্য লেখা,
দিতে পারেনি তা মাকে
হয়নি তো আর দেখা।

"
মাগো,তোমার জন্য আনতে পারিনি ওষুধ
ক্ষমা করে দিও আমায়"
বুকে নিয়ে এমন আকুতি
চলে গেল তার দেহ,
এর জন্য কি নয় দায়ী
আমাদের সমাজের কেহ?

হাজারো মানুষের আত্মা
চাইছে আজ জবাব,
তাদের মৃত্যুর কে দায়ী
নয় কি আমাদের সমাজ?

নিজের স্বার্থ শুধু বুঝলি   তোরা
দিলিনা আমাদের জীবনের মূল্য,
তোদের তো বলা যায়না মানুষ
তোরা নয় কি পশুর সমতূল্য?

হাজারো মানুষের না বলা কথা
বলতে দিলি না তুই সাভার,
জবাব তোকে একদিন দিতে হবে
কেন করলি এমন ব্যবহার?

কবিতা-মোঃ আদনান সিফাত

ভালবাসার নীল-কষ্ট

মোঃ আদনান সিফাত


আমি তোমায় জীবনানান্দের বনলতার সাথে তুলনা দেব না
আমি জানি তুমি শুধু তোমারই উপমা,
তোমার কালো কেশ যখন উতঙ্গ পবনে উড়ে তখন,
স্বয়ং বনলতাও লজ্জায় আঁচল দিয়ে তার শ্রী লুকিয়ে ফেলে
মনালিসাকেও হার মানায় তোমার মুখের হাসি
হৃদয় মাঝে করছে বসত না বলা কথা
               "ভালবাসি"
অবদমনের অগ্নি পোড়াচ্ছে বিনিদ্র রাত্রি
ঘুমের ঘোরে তোমার সেই চিন্ময়ী-মৃন্ময়ী রুপ
কেড়ে নিয়েছে আমার নিশি নিদ্রা
তুমি আমার ভোরের প্রার্থনা;
আনন্দ তুমি আমার,অপার বেদনা
আমি জানি তুমি আমায় কখনও  ভালবাসবেনা
আমায় দুঃখ দেবে দাও, এটা নতুন কিছু নয়
আমার চলে যাওয়াও তোমায় ব্যথিত করবেনা
আমি তোমার দেয়া  প্রতিটি নীল কষ্টকে
নীল-পদ্ম রুপে আমার হৃদয়ের ভালবাসার ফুলদানীতে
সাজিয়ে রেখেছি আমার নীল-ভালবাসাকে

কবিতা-তন্ময় আলমগীর

'উল্টোস্রোত'

তন্ময় আলমগীর


খুব বেশী নিচু হতে নেই
খুব করে বলতে তুমি
করজোড়ে তোমার সামনে বসে যেতাম যখন।

খুব বেশী বাঁচতে নেই
বাঁচার অর্থ বুঝার আগেই
মরে যাওয়ার প্রচন্ড তাগাদা দিতে তুমি
বেঁচে থাকাতে নাকি সুখ নেই কোন।

কী জানি!বুঝি না কিছুই।

খুব বেশী ভালবাসতে নেই
খুব করে বুঝাতে আমায়
ছোট ভাইটির মতো বুকে জড়িয়ে
কান্নায় ভেঙ্গে পড়া ভিতরটা লুকিয়ে
খুব করে বলতে তুমি
খুব বেশী কাঁদতে নেই।

খুব বেশী সুখী হতে নেই
একটি কবিতা লিখতে পারলেই
হাজার জন্মেও তৃপ্তি-অফুরান
মুখ ভরে বলতে তুমি

কবিতা-শামীম পারভেজ

মায়া মমতা আর ভালোবাসায়

শামীম পারভেজ 


পানি নেই, করতে পারিনা গোসল
পলি নেই , ফলাতে পারিনা ফসল 
নিতে পারিনা শ্বাস নেই বিশুদ্ধ বায়ু
তাই কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে আয়ু 
রবির প্রচন্ড তাপে ঝলসে যাচ্ছে দেহ
রাখে কি দিকে দৃষ্ট, এর খোঁজ কেহ
খাবারে মিশেছে ফরমালিন নামের বিষ 
কিযে উঠেছে চুলকানি সারা দেহে ইশ
আর কত কষ্ট পোহাতে হবে জানিনা
আমি ক্যন্সারের রোগি সেতো পিছ ছাড়েনা

কোথায় আমার সবুজ শাড়ি
কোথায় আমার খড়ের বাড়ি
কোথায় আমার গোলা ভরা ধান
কোথায় জারি সারি ভাটিয়ালি গান
কোথায় আমার সোনালী আঁশ পাট
কোথায় বটের ছায়ায় বসানো হাট 
কোথায় গেলে ষাড় লাংগল জোয়াল
কে রাখে এখন সবের খেয়াল

হে আমার পেটের সন্তানরা 
বুক খালি করে রক্ত ঝরিয়ে গিয়েছিস চলে 
আমার সবুজ শাড়িতে লাল রঙ এঁকে 
এর ছায়াতলে এখনো বেঁচে আছি একটু সুখের আশায়
আমাকে করে গেছিস স্বাধীন 
আমিতো এমনই স্বাধীন 
আমার দেহের উপর চলে অত্যাচার 
জ্বলে আগুন পুড়ে হয় ছাড়কার।

তোদের মনে পড়ে বারবার 
আমিতো নই হারবার 
যত কষ্ট দুঃখ বেদনা থাকুক 
শুধু বেঁচে থাকবো একটি আশায় 
তোদের রেখে যাওয়া 
মায়া মমতা আর ভালোবাসায়