কবিতা-পাভেল আল ইমরান

অতীতের চোরাবালি 
পাভেল আল ইমরান

তোমাদের সাথে যে কথোপকথন 
এত ভালবাসা -আবেগ ঝরানো কথা 
সংগীত জলসা -আড্ডা - হর্ষে মাতোয়ারা 
ঘাস ফুলে প্রজাপতি উড়াউড়ি খেলে
পাশাপশি বসা চায়ের কাপের ধোঁয়া
দীর্ঘক্ষণ দুষ্টুমি কখনো অভিমান 
এই যে এক্ষনি বসে এথা আলাপন 
কপোত-কপোতি চোখাচোখি বিভোরতা

থাকবে না - কিছুক্ষণ পর থাকবে না 
অতীতের চোরাবালি সব গিলে খাবে
রবেনা স্থান - সময় - এই মূখ
পারবো না আমি বেঁধে রাখতে কিছুই

কথা ভাবতে হৃদয় কাতরে উঠে 
সব বর্তমান এক্ষণই গত হবে... !!

কবিতা-কানিজ ফাতেমা খুশি

ভবঘুরে পথের এক পথিক

কানিজ ফাতেমা খুশি


যদি রাতের মোলায়েম আলোয়
ফিরে আসতে ,
দেয়ালে ঝুলানো পুরানো ছবিটা
টুকরো কাপড়ে ঢেকে দিতাম
বাজিয়ে শোনাতাম পুরানো দিনের
সেই গানগুলো ,
যে গানগুলোতে তোমার আমার
কথা থাকতো

যদি ঊষালগ্নের আড়ষ্টতা ভেঙ্গে
ফিরে আসতে ,
জড়িয়ে নিতাম আলতো চুম্বনে
রাঙিয়ে দিতাম ধরণী
রঙধনুর সাত রঙ ছিটিয়ে
শতকোটি পত্র-পল্লবে
এবং অসীমে

যদি বিষণ্ণ দুপুরে
কাঠফাটা রোদে পুড়ে
ফিরে আসতে ,
বাতাবি লেবুর মিষ্টি শীতল
সরোবরে সজীব করে দিতাম
প্রগাঢ় মমতায়

যদি ধূসর বিকেলে
গভীর নদীর
পাল তোলা নৌকার মাঝি হয়ে
ফিরে আসতে ,
আমি সে নদীর আবাহনী ঢেউ হতাম
দুলিয়ে যেতাম অনবরত
বাজিয়ে শোনাতাম
তোমার আমার নয়
সান্ধ্যকালীন নীড়ে ফেরার
কোনো আকুল আবাহনের গান

এত আয়োজন শুধু তোমায় ভেবেই ,
শুধু তোমারই জন্য
তবুও হবে তুমি বিলীন
আমার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা
উপেক্ষা করে মিলিয়ে যাবে
গোধুলীর আবছা আলোয়
ধূসর-রঙা শান্ত
ঝিরিঝিরি মলিন কুয়াশায়

পশ্চাতে কারো চোখের
আঙিনা জুড়ে যে
ঝড়ের প্রবল তান্ডব বইছে
জানবে , বুঝবে , তবু দেখবে না ফিরে
রবে অবিচল

কারণ, তুমি যে এমনই -
গৃহহারা, ছন্নছাড়া ,
ভবঘুরে পথের এক পথিক

কবিতা-অনির্বাণ মিত্র চৌধুরীর ২টি কবিতা


নিত্যদিনের কীর্তিকথা

- অনির্বাণ মিত্র চৌধুরী


প্রতিদিন সূর্য ডোবে, সন্ধ্যা নামে, রাত হয়
আমার দু'চোখে ঘুম আসে না।
প্রতিদিন সূর্য উঠে, আলো ফোটে, ভোর হয়
আমার দু'চোখে ঘোর কাটে না।

প্রতিদিনই ভাবি, একটি নতুন সূর্য মানে
একটি নতুন সকাল, একটি নতুন শুরু।
সে আশাতেই ঘর ছেড়ে বের হই
প্রতিদিনের মতই।
এদিক-সেদিক দিগ্বিদিক কত ঘোরাঘুরি
এগলি-ওগলি কানাগলি কত ছোটাছুটি।
তারপর যথারীতি সন্ধ্যা নেমে আসে
তারারা উঁকি মারে সন্ধ্যার আকাশে।
আমিও ফিরে আসি ঘরে
ঘর্মাক্ত শরীরে।
স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে গা এলিয়ে দেই
দখিনা বাতাস ছুঁয়ে দিয়ে যায় তনুমন।
সঙ্গে একরাশ নিরাশা ভীড় করে নিউরণে নিউরণে
আমি আর স্থির থাকতে পারি না।

রাত বাড়তে থাকে
আর আমার দুঃশ্চিন্তার রেখাগুলোও।
এক সময় ঘুমাতে যাই
নতুন স্বপ্ন দেখব বলে।
কিন্তু, না।
ঘুমের ঘোরে সেই দুঃস্বপ্নেরা তাড়া করে
যথারীতি আমি চমকে উঠি।
এপাশ-ওপাশ করতে করতে রাত কেটে যায়।
আবার সূর্য উঠে, আলো ফোটে, ভোর হয়
আমার দু'চোখে ঘোর কাটে না


আজন্ম সাধ

- অনির্বাণ মিত্র চৌধুরী


আমার আজন্ম সাধ রে কন্যা,
তোর কোলে একটু মাথা রাখি।
আমার জটভরা চুল তোর নরম হাতের আদর পাবে
আমি চুপটি করে ঘাপটি মেরে থাকবো
সেই মুহূর্তের অপেক্ষায়
আদিম অনুভুতি হৃদয়ে নাড়া দেবে।

আমার আজন্ম সাধ রে কন্যা,
তোর হাতে একটু হাত রাখি।
গায়ে গা লাগিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যাবো বহুদূর
স্পর্শে স্পর্শে মনের ক্যানভাসে রচিত হবে
নতুন প্রেমের উপাখ্যান
হৃদয়ে বাজবে অনুরাগের সপ্তসুর।

আমার আজন্ম সাধ রে কন্যা,
তোর চোখে একটু চোখ রাখি।
চোখের নীলে আমি খুব গোপনে কাটবো সাঁতার
চোখে চোখেই না হয় কথা হবে;
নীরবতা রচিত হবে
দৃষ্টিসীমায় তোর মুখটাই হবে প্রগাঢ়।

আমার আজন্ম সাধ রে কন্যা,
তোর অধরে আমার অধর রাখি।
চুম্বনে চুম্বনে উপচে পড়বে আমাদের ভালবাসা
হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতি হবে বিনিময়
স্বর্গীয় সে ভালবাসায়
মনে মনে বাড়বে প্রেম তিয়াসা